তরুণের কোপানো মরদেহ

তরুণের কোপানো মরদেহ

অপরাধ ও বিচার দেশের খবর

রাস্তার ওপরে মোটরসাইকেল দাঁড় করানো। পাশে আছে হেলমেট। সেখান থেকে খানিক দূরেই পড়ে ছিল জহুরুল ইসলাম (২৩) নামের এক তরুণের কুপিয়ে জখম করা মরদেহ। গতকাল মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময় রাজশাহীর বাঘা উপজেলার তেঁথুলিয়া মাউদপাড়া গ্রামে এ খুনের ঘটনা ঘটে। আজ বুধবার সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

জহুরুলের বাবার নাম রফিকুল ইসলাম। তাঁদের বাড়ি উপজেলার মনিগ্রাম মধ্যপাড়ায়। জহুরুল উপজেলার পানিকামড়া বাজারের একটি ফোনের দোকানের কর্মচারী ছিলেন। তিনি অর্ডার অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দোকানে দোকানে ফোন সেট সরবরাহ করে থাকেন।

স্থানীয় লোকজন বলেন, আজ ভোরের দিকে মাউদপাড়া গ্রামের একজন কৃষক খেজুরগাছের রস নামাতে গিয়ে রাস্তার ওপর মোটরসাইকেল রাখা দেখেন। কাছে গিয়ে দেখেন সেখানে হেলমেট ও হাঁসুয়া পড়ে আছে। পরে দেখেন রাস্তা থেকে খানিকটা দূরে শাহবাজ হাজির আমগাছের নিচে একজন পড়ে আছেন। কাছে গিয়ে দেখেন, তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করা। খবর পেয়ে সকাল নয়টার দিকে বাঘা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, গতকাল রাতে জহুরুলের ভাই এবং দোকানের লোকজন থানায় এসেছিলেন। রাতেই পুলিশ তাঁকে খোঁজাখুঁজি করেছে। না পেয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে রাখা হয়েছে। আজ সকালে পুলিশ একটি লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়। লাশটি জহুরুলের বলে শনাক্ত করা হয়।

খবর পেয়ে জহুরুলের পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে যান। নিহত জহুরুলের বড় ভাই মনিরুল ইসলাম বলেন, গতকাল সকাল ১০টায় তাঁর ভাই বাড়ি থেকে বের হন। দুপুরে পুঠিয়ায় একটি মোবাইলের দোকান থেকে পণ্য বিক্রির বাকি থাকা টাকা তোলেন। বিকেল পাঁচটার দিকে বাঘা উপজেলার আড়ানী বাজারে গিয়ে খলিফা ইলেকট্রনিকসে ফোন সেট বিক্রি করেন। এরপর থেকে জহুরুলের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফোনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে পানিকামড়া বাজারের দোকানমালিক মনিরুল ইসলাম বাসায় যান। বিষয়টি পরিবারের লোকজনকে জানান। রাত আটটার দিকে তাঁরা থানায় যান। রাতে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে জহুরুলের কোনো সন্ধান পাননি। আজ তাঁদের কাছে লাশ পাওয়া যাওয়ার খবর যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *