দিনাজপুরের লিচু

বাজারে উঠেছে দিনাজপুরের টসটসে লিচু

কৃষি পণ্য ও ব্যবসা

দিনাজপুরের বাগানে বাগানে এখন পাকা টসটসে লিচু। এই মধ্যজ্যৈষ্ঠে এখানকার বাগানের মালিকেরা লিচু সংগ্রহ ও বিক্রয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লিচুর রাজ্যখ্যাত এ জেলায় লিচু কিনতে আসছেন ব্যাপারীরা।

খুব সকালে চাষিরা বাগান থেকে লিচু পেড়ে নিয়ে আসছেন বাজারে। কেউ খুচরা বিক্রি করছেন, কেউবা দিচ্ছেন আড়তে। সেখান থেকে ব্যাপারীরা লিচু কিনে খাঁচায় ভরছেন, তুলছেন ট্রাকে। এসব লিচু যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দিনাজপুরে ৫ হাজার ২৮১ হেক্টর জমিতে এবার লিচুর চাষ হয়েছে। এসব বাগানে ৩ লাখ ৩০ হাজার ৬৩টি গাছ রয়েছে। ছোট-বড় বাগান রয়েছে ৩২ হাজার। এখন প্রতিদিন প্রায় ২০-২৫ লাখ লিচু পার্সেলযোগে ও অন্যান্য মাধ্যমে যাচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। প্রতিবছর প্রায় ৪০০ কোটি টাকার বেচাকেনা হয় লিচুর মৌসুমে।

গত বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, দিনাজপুর শহরের সবচেয়ে বড় লিচুর বাজার কালীতলা, নিউমার্কেট ও বাহাদুর বাজারে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। বাজারে এসেছে মাদ্রাজি, বেদানা ও চায়না-থ্রি জাতের লিচু। তবে বোম্বাই ও চায়না-থ্রি কিছুটা কম।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে মাদ্রাজি জাতের প্রতি ১০০ লিচু বিক্রি হচ্ছে ১৫০-২০০ টাকায়। বেদানা জাতের ১০০টি লিচু বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৭০০ টাকা দরে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ১০-১২ দিন পর প্রতি ১০০টি বেদানা ও চায়না-থ্রি জাতের লিচু ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হবে।

কালীতলা বাজারে লিচু কিনতে এসেছেন আবদুল্লাহ মোমেন। তিনি বলেন, ‘ছেলে বায়না ধরেছে লিচুর জন্য। তাই কিনতে আসা। মাদ্রাজি জাতের ২০০ লিচু কিনেছি ৩০০ টাকায়।’

আলামিন ব্যাপারী এসেছেন নারায়ণগঞ্জ থেকে। তিনি জানালেন, মৌসুমের শুরু থেকে প্রতিদিন এক ট্রাক লিচু নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সপ্তাহখানেক পর প্রতিদিন তিন-চারটি ট্রাক লোড করবেন তিনি। তিনি ১ হাজার মাদ্রাজি লিচু কিনেছেন ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে। সেই লিচু নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত পৌঁছাতে খরচ পড়বে ১ হাজার ৮০০ টাকা। সেখানে খুচরা বিক্রি হবে ২ হাজার ২০০ টাকা দরে।

সরেজমিনে আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের বাসায় লিচু পাঠাতে কুরিয়ার সার্ভিসগুলোয় ব্যাপক ভিড় লক্ষ করা যায়। লিচুর বাজারসংলগ্ন এসএ পরিবহনের কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায়।

এসএ পরিবহনের ব্যবস্থাপক রতন সেন বলেন, লিচুর মৌসুমে লিচু পরিবহনের জন্য বাড়তি দুটি গাড়ি সার্ভিস দেয়। একেকটি কাভার্ড ভ্যানে ৫০০টি পর্যন্ত খাঁচা বহন করা হয়।

তবে পার্সেলযোগে লিচু পাঠানোর খরচ কিছুটা বেশি বলে অভিযোগ করছেন অনেকেই। প্রতিটি ১০০-২০০ লিচুভর্তি খাঁচার জন্য কুরিয়ার চার্জ রাখা হয় ২৫০-৩৫০ টাকা। ৪০০-৬০০টি লিচুভর্তি খাঁচার জন্য ৫০০-৬০০ এবং ৮০০-১০০০টির খাঁচার জন্য ৬০০-৭৫০ টাকা রাখা হয়।

দিনাজপুর থেকে নৈশবাসের ছাদে ও বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসযোগে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ লিচু খাঁচায় করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, সিলেটসহ বিভিন্ন স্থানে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তৌহিদ ইকবাল বলেন, এখানকার চাষিদের সুবিধার্থে এখানে লিচু প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র চালুর কথা ভাবা হচ্ছে। একই সঙ্গে লিচু কীভাবে বিদেশে রপ্তানি করা যায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *