chirirbandar

শীতে কাঁপছে দেশ জনজীবন বিপর্যস্ত

দেশের খবর

শৈত্যপ্রবাহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অব্যাহত আছে। উত্তর জনপদের পাশাপাশি গোটা দক্ষিণ এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ওইসব এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীতে দারুণ কষ্টে আছে বস্ত্রহীন মানুষ। ডায়রিয়া, সর্দি-কাশিসহ শীতজনিত নানা রোগে ভূগছে দেশের মানুষ। বেশি সমস্যায় বয়স্ক ও শিশুরা।

রংপুর বিভাগ এবং গোপালগঞ্জ, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, ফেনী, পাবনা, নওগাঁর বদলগাছি, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল, যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ভোলা ও বরিশালে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

গত রোববার রাতে সংস্থার সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। শনিবার রাজারহাটে ছিল ৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর তেঁতুলিয়ায় ছিল ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন শ্রীমঙ্গলেও তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রিতে নেমে যায়। ঢাকায় এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আগের দিন ছিল ১৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ অঞ্চলের অধিকাংশ জায়গায় তাপমাত্রা ১১ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে বিরাজ করছে। শুক্রবার শুরু হয়েছে শৈত্যপ্রবাহ। ওইদিন তেঁতুলিয়ার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, শীতকালে তাপমাত্রা নেমে যাবে এবং শীত অনুভূত হবে-সেটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া এখন পৌষ মাস চলছে। বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার সময় এটা। তিনি বলেন, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকার পশ্চিমাংশে অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। মধ্যমৌসুমে ফের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা থাকতে পারে এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকতে পারে। যানবাহন চলাচলে সাবধানতা অবলম্বন না করলে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

গত দু’দিন ধরে দেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে কুড়িগ্রামে। ফলে শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী লোকজন রয়েছে চরম বিপাকে। কনকনে ঠাণ্ডায় বিপাকে পড়েছে ছিন্নমূল মানুষ। সরকারিভাবে যেসব শীতবস্ত্র দেয়া হয়, সেটিও অপ্রতুল। কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক সুবল চন্দ্র সরকার জানান, চলতি মাসে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *