দিনাজপুর-৪ আসন, যা আমাদের প্রাণের চিরিরবন্দর এবং খানসামা উপজেলা নিয়ে গঠিত, আজ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এখন সময় এসেছে যোগ্য নেতৃত্বের হাতে আমাদের জনপদের দায়িত্ব তুলে দেয়ার। আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী, আমাদের মাটি ও মানুষের নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্জ্ব মো. আখতারুজ্জামান মিয়া কেবল একটি নাম নন, তিনি এই অঞ্চলের উন্নয়ন ও আস্থার এক পরীক্ষিত প্রতীক। আজ আমরা আলোচনা করব কেন তিনি অন্যদের চেয়ে আলাদা এবং কেন তার হাতেই নিরাপদ আমাদের আগামী।

১. মাটির সন্তান ও নাড়ির টান: অন্য অনেক প্রার্থীর মতো তিনি অতিথি পাখি নন। সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, এবারের নির্বাচনে প্রায় সব প্রার্থীর বাড়ি চিরিরবন্দরে হলেও, আখতারুজ্জামান মিয়া তার ব্যক্তিগত সংযোগ এবং উপস্থিতির কারণে অনন্য। গত ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি এই জনপদের আনাচে-কানাচে ৯৬০টিরও বেশি উঠান বৈঠক করেছেন। তিনি নিজে প্রতিটি ভোটারের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন, কারো কারো বাড়িতে একাধিকবার গিয়ে খোঁজ নিয়েছেন। যে নেতা নির্বাচনের আগেই জনগণের দুয়ারে হাজিরা দেন, নির্বাচিত হলে তিনি যে জনগণের সেবক হবেন—তা সহজেই অনুমেয়।
২. নৈতিকতা ও সততার মূর্ত প্রতীক: রাজনীতিতে সততা এখন বিরল, কিন্তু আখতারুজ্জামান মিয়া সেখানে ব্যতিক্রম। তিনি ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। সেই সময় এবং পরবর্তী দীর্ঘ বিরোধীদলের কঠিন সময়েও তিনি তার নীতি থেকে বিচ্যুত হননি। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার বা জনবিচ্ছিন্নতার অভিযোগ ওঠেনি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘হিসাববিজ্ঞান ও ইনফরমেশন সিস্টেমস’ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জনকারী এই নেতা শিক্ষিত, মার্জিত এবং পরিচ্ছন্ন ইমেজের অধিকারী। তার নৈতিক অবস্থান তাকে দলমত নির্বিশেষে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
৩. দীর্ঘদিনের অবহেলিত সমস্যার সমাধান এবং আগামীর রূপরেখা: দিনাজপুর-৪ আসনের মানুষের দীর্ঘদিনের কিছু প্রাণের দাবি রয়েছে, যা পূরণে আখতারুজ্জামান মিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তার নির্বাচনী ইশতেহার ও বিভিন্ন পথসভার বক্তব্য থেকে আমরা তার উন্নয়নের একটি স্পষ্ট রূপরেখা পাই:

- আত্রাই সেতুর স্বপ্ন পূরণ: স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও আত্রাই নদীর ওপর কাঙ্ক্ষিত সেতুটি আজও পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো আর বর্ষায় নৌকা—এই দুর্ভোগ ঘোচাতে আখতারুজ্জামান মিয়ার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের বিকল্প নেই। তিনি নির্বাচিত হলে এই সেতুর কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
- নদী ভাঙন রোধ: খানসামা ও চিরিরবন্দরের নদীপাড়ের মানুষের কান্না থামানো জরুরি। নদী শাসনে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং ভাঙন কবলিত মানুষের পুনর্বাসনে তিনি কাজ করবেন।
- সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন: আমাদের এলাকার গ্রামীণ সড়কগুলোর বেহাল দশা। খানাখন্দে ভরা রাস্তাঘাট সংস্কার করে একটি আধুনিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাই তার লক্ষ্য।
- কর্মসংস্থান ও কৃষি উন্নয়ন: উত্তরাঞ্চলের শস্যভাণ্ডার খ্যাত এই জনপদে কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় ভিশন ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’-এর আলোকে কাজ করবেন।
৪. পরীক্ষিত নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতা: আখতারুজ্জামান মিয়া কোনো নবাগত বা অনভিজ্ঞ মুখ নন। ৮ম জাতীয় সংসদে তিনি এই এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং সেই সময়েও এলাকার উন্নয়নে সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েও মাঠ ছেড়ে যাননি। সুদিনে যারা আসে আর দুর্দিনে যারা পালায়—তাদের ভিড়ে আখতারুজ্জামান মিয়া এক অকুতোভয় সৈনিকের নাম। তার অভিজ্ঞতা আমাদের চিরিরবন্দর-খানসামাকে স্মার্ট ও আধুনিক জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
৫. বর্তমান প্রেক্ষাপট ও আমাদের করণীয়: দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে ধানের শীষের বিজয় অপরিহার্য। এটি কেবল একজন ব্যক্তিকে নির্বাচিত করা নয়, বরং এটি আমাদের ভোটাধিকার, বাকস্বাধীনতা এবং মর্যাদার লড়াই। আখতারুজ্জামান মিয়া সেই লড়াইয়ের সম্মুখ সারির যোদ্ধা।
উপসংহার: প্রিয় চিরিরবন্দর ও খানসামাবাসী, ভুল সিদ্ধান্ত আমাদের পিছিয়ে দিতে পারে ৫ বছর, কিন্তু সঠিক সিদ্ধান্ত আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেবে একটি সুন্দর ও নিরাপদ সমাজ। যিনি আমাদের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন—সেই আলহাজ্জ্ব মো. আখতারুজ্জামান মিয়াকে বিজয়ী করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
আসুন, আগামী নির্বাচনে দলমত নির্বিশেষে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিই। দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও সমৃদ্ধ দিনাজপুর-৪ আসন গড়ে তুলি।
“আগামীর সমৃদ্ধি, ধানের শীষেই বৃদ্ধি”
