জীবনযাপন ছোট লক্ষ্যে বড় বিজয়

জীবনযাপন ছোট লক্ষ্যে বড় বিজয়

স্থানীয় সংবাদ স্মরণীয় ও বরেণ্য ব্যক্তি বর্গ

জীবনযাপন ছোট লক্ষ্যে বড় বিজয়

মোঃ ফরিদুল ইসলাম পিতা মোঃ হামিদুল ইসলাম। মাতা মোছাঃ ফরিদা বানু। রাণীরবন্দর চিরিরবন্দর দিনাজপুরের এক তরুণ, সমাজিক/ সমাজ সেবক কাজে নিয়জিত মোঃ ফরিদুল ইসলাম অষ্টম শ্রেণির শিক্ষাজগৎ থেকে নানা ধরনের সমাজমুলক কাজে নিয়জিত হয়ে নিজেকে ধন্য ও গর্ভ মনে করে নিজের মন জয় করলেন সেই তরুণ।

অষ্টম শ্রেণি থেকে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে তিনি সমাজ সেবক কাজে নিয়জিত হবেন।

সেই আশার প্রত্যাশায় পরিপূ্র্ণ হয়ে ছোট একটি সংগঠন থেকে নিজের সমাজ সেবক কাজ শুরু করেন এবং সেই কাজ কে ভালোবেসে আরো বেশ কয়েকটা সংগঠনে যুক্ত হতে থাকেন। সমাজ-সেবক ইভেন্ট এ সংযুক্তের ডাক পান এবং সেই মুহূর্ত ইভেন্ট গুলোতে সংযুক্ত হন, হয়ে নিজের কাজের উপর বেশ আলোচনা উপস্থাপন করে বিভিন্ন যায়গা থেকে স্মারক পদক লাভ করেন।
বাধা ডিঙিয়েই ছুঁতে হয় জয়ের লক্ষ্য।





আরও দৃঢ় হলো, সেটা হচ্ছে মানুষ কখনোই এক ধাপে অনেক বড় কোথাও পৌঁছাতে পারে না। একটু একটু করে ছোট ছোট পায়ে সব বড় পথ অতিক্রম করতে হয়।

এটা শুধু মো: ফরিদুল ইসলাম এর ক্ষেত্রেই সত্য নয়।

জীবনে যত সফল মানুষ দেখেছি, তাঁদের সবার বড় অর্জনের পেছনে আছে অনেক অনেক ছোট ছোট চেষ্টা ও অর্জন। সেই ছোট অর্জনগুলোর কোনোটাই হয়তো বড় অর্জনের সঙ্গে তুলনা করলে তেমন চিত্তাকর্ষক মনে হবে না। কিন্তু শেষ গন্তব্যে যাওয়ার জন্য প্রতিটাই অপরিহার্য।
পাহাড়ে চড়ার বিষয়টাও একই। বেশ কিছু পর্বতারোহীর সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে।

এ বিষয় নিয়ে আমার কৌতূহলও বেশি। তাই পর্বতারোহীদের লেখা বেশ কিছু বই আমি পড়েছি। সবাই বলেছেন যে বিশেষ করে লাস্ট বেজ ক্যাম্প থেকে চূড়া পর্যন্ত যাওয়ার পথে গন্তব্যের শেষের কথা ভাবলে চলবে না। তখন মন ও শরীরে ভয় ঢুকে যাবে। তিন হাজার ফুট কি, দশ পাও এগোনো যাবে না। ভাবতে হবে পাঁচ পা, দশ পা করে।

পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না। চালিয়ে গেল । টুকিটাকি লেখার কাজ, টিউশনি করা। সেই অষ্টম শ্রেণি থেকে কাটল নানা ধরনে সামাজিক কাজে।





যেকোনো বড় যাত্রার শুরুতেই গন্তব্য অনেক কঠিন মনে হয়। আমরা গন্তব্যের ওপর বেশি মনোনিবেশ করি বলেই হয়তো সেখানে পৌঁছানোর কঠিনটা দেখে ভয়ে হাল ছেড়ে দিই। মনে রাখতে হবে যে প্রতিটা বড় যাত্রাই হয় অনেক অনেক ছোট পা ফেলায়। লক্ষ্য মাথায় রেখে ছোট পা ফেলায় মনোযোগ দিলেই যাত্রা সফল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। ছোট ছোট সহজ কাজগুলো ঠিক করে করলেই বড় কিছু অর্জন করার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

আরেকটা কথা। বড় কিছু এখনই অর্জন করছি না, তাই বলে ছোট কাজগুলো ভালো না লাগার কোনো কারণ নেই। সবার কাছে জীবনের ছোট কাজগুলো ছিল আনন্দের।

যাঁরা করেছেন তাঁদের সঙ্গে কথা বললে বোঝা যায় যে বড় অর্জনের পাশাপাশি এই ছোট কাজগুলো তাঁদের জীবনে অবিস্মরণীয় ও মধুর।

এই অভিজ্ঞতা আমাদের জন্যও মধুর হওয়া উচিত। বড় আয়োজনে উদ্‌যাপন করা না হলেও নিজের কাছে ভালোবেসে, কাছের মানুষের সঙ্গে শেয়ার করে। প্রতিটি ছোট কাজ আমরা একটু হলে বুকে বেঁধে রাখি।





স্বপ্ন দেখি বড় কিছুর। আনন্দের সঙ্গে বিন্দু বিন্দু জল সংগ্রহ করে তৈরি করি সেই অতল সাগর। সবার প্রতি আর নিজের প্রতি এই আমার কামনা। আর যাঁরা পথ দেখিয়েছেন এবং দেখাচ্ছেন, তাঁদের প্রতি অসীম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

জীবনযাপন ছোট লক্ষ্যে বড় বিজয়

Dinajpur Today Facebook Page and Group

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *