Chirirbandar

রাবিতে নিয়োগ পরীক্ষা: উপাচার্যসহ ১২ জনকে আদালতের সমন

দেশের খবর শিক্ষা ও প্রগতি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেসের (আইবিএসসি) সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপক নিয়োগের বিষয়ে করা একটি মামলায় আদালত সমন জারি করেছেন। ওই মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম আবদুস সোবহান, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এম এ বারী, কোষাধ্যক্ষ এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান, আইবিএসসির পরিচালক মো. ফিরোজ আলমসহ ১২ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
গত ৭ ডিসেম্বর রাজশাহী জেলা সদর সিনিয়র জজ আদালতে বাদী হয়ে মামলা করেন মতিউর রহমান ও মোছা. শারনী আখতার নামের দুই নিয়োগ পরীক্ষার্থী। এই মামলায় এই ১২ জনকে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির হয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে। সম্প্রতি আদালত এই আদেশ দিলেও বিষয়টি আজ রোববার জানাজানি হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী নুরে কামরুজ্জামান ইরান বলেন, ৭ ডিসেম্বর মতিউর রহমান ও মোছা. শারনী আখতার মামলা করেন। তাঁরা এই নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের আবেদন করেছেন। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি বিবাদীদের আদালতের হাজির হতে বলেছেন আদালত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএসসি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ ও ২০১৭ সালের তিনটি পুরোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বর্তমান প্রশাসন সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপক—এই দুই পদে শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা নেয় ৮ ডিসেম্বর। সহকারী অধ্যাপকের একটি পদের বিপরীতে আবেদন পড়েছিল মোট সাতটি। এর মধ্যে সাক্ষাৎকার বোর্ডে উপস্থিত ছিলেন মাত্র দুজন। এ কারণে ওই পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যায়। অপর দিকে সহযোগী অধ্যাপকের দুটি পদের বিপরীতে আবেদন করেন মোট ১৭ জন। এর মধ্যে নানা অজুহাতে ১২ জনকে প্রবেশপত্র দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন আবেদনকারীরা। তবে সাক্ষাৎকার বোর্ডে ওই দিন চারজন উপস্থিত থাকায় সাক্ষাৎকার নিতে পেরেছিল প্রশাসন। ইনস্টিটিউটগুলোর নিয়ম অনুযায়ী সাক্ষাৎকার গ্রহণের পর প্রথমে একটি বোর্ড অব গভর্নরস সভা হয়ে পরে সিন্ডিকেটে গিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়। কিন্তু এই বোর্ডের অধিকাংশ সদস্য নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে নিয়োগ প্রক্রিয়াটিকে অবৈধ দাবি করেন। পরে সদস্যদের আপত্তির মুখে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করার ঘোষণা দেন।
আবেদনকারীদের একটি অংশ অভিযোগ করে আসছিল, ২০১৫ ও ২০১৭ সালের পুরোনো বিজ্ঞপ্তিতে সহকারী ও সহযোগী অধ্যাপক মিলিয়ে ৪ পদে মোট ২৪ জন আবেদন করেছিলেন। কিন্তু অন্যায়ভাবে তাঁদের প্রবেশপত্র দেয়নি কর্তৃপক্ষ। তাঁদের অনেকের এশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি ছিল। অনেকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যোগ্যতাও ছিল। কর্তৃপক্ষ প্রবেশপত্র না দেওয়ার কারণ হিসেবে এশিয়ার ডিগ্রি গ্রহণযোগ্য নয় বলে তাঁদের মৌখিকভাবে জানিয়েছিল। ওই আবেদনকারীরা অভিযোগ করেন, এক প্রার্থী একটি কলেজ থেকে দুই বছরের ভুয়া অভিজ্ঞতার কাগজপত্র দাখিল করেছিলেন। কিন্তু আদৌ তিনি সেই কলেজের শিক্ষক ছিলেন না বলে তাঁরা প্রমাণ পেয়েছেন। তবু ওই প্রার্থীকে প্রবেশপত্র দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। এসব বিষয় উল্লেখ করে ওই দুই নিয়োগ পরীক্ষার্থী ৭ ডিসেম্বর বাদী হয়ে মামলা করেন।
ইনস্টিটিউটের পরিচালক মো. ফিরোজ আলম বলেন, মামলার বিষয়ে তাঁর কাছে গত বৃহস্পতিবার একটা কপি এসেছে। এতে তাঁর কিছু করার নেই। এটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দেখবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবদুস সালাম বলেন, তিনি গত বৃহস্পতিবার এ পদে নিয়োগ পেয়েছেন। আজ রোববারই তাঁর প্রথম অফিস। এ বিষয়ে তিনি এখনো অবগত নন।

aks

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *