Chirirbandar News

অবশেষে শুরু হচ্ছে ভেনামি চাষ

কৃষি পণ্য ও ব্যবসা দেশের খবর

যশোর বিসিক শিল্প নগরীর এম ইউ সি ফুডস লিমিটেড বর্তমানে বিশ্বের ১৫টি দেশে বছরে প্রায় ১০১ কোটি টাকার হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি করে। রপ্তানি আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি এবার উচ্চফলনশীল জাতের ভেনামি চিংড়ি চাষ প্রকল্পে জড়িত হয়েছে। আগামী মাসে শুরু হবে ভেনামি চিংড়ির চাষ।

এম ইউ সি ফুডস সূত্রে জানা গেছে, তারা থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, হংকং, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, ভিয়েতনাম, গ্রিস, পর্তুগাল, সাইপ্রাস, স্পেনসহ এশিয়া ও ইউরোপের ১৫টি দেশে হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি করে। ২০১৯ সালে দেশের মোট ২ হাজার ৯৯৬ কোটির টাকার হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানির মধ্যে এম ইউ সি ফুডসের হিস্যা হচ্ছে ১০০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

রপ্তানিতে বিশেষ অবদানের জন্য প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্যামল দাসকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে দুই দফায় সিআইপি (বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি) ঘোষণা করে পদক দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তিনি ২০১৮ সালে জাতীয় মৎস্য পুরস্কারে রৌপ্যপদক অর্জন করেছেন।

১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এম ইউ সি ফুডসে নারী-পুরুষ মিলে অন্তত ৩০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতিদিন অন্তত ৫০ মেট্রিক টন হিমায়িত চিংড়ি উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এতে ৮০০ মেট্রিক টন হিমায়িত চিংড়ি সংরক্ষণ ও গুদামজাত করার সুবিধা রয়েছে।

দেশ থেকে হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শ্যামল দাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিবছর দেশে বাগদা চিংড়ির উৎপাদন কমে যাচ্ছে, যে কারণে জাতীয়ভাবে চিংড়ি রপ্তানি কমছে। চিংড়ির অভাবে অনেক কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে। কিছু কোম্পানি ক্ষয়িষ্ণু অবস্থায় রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে উচ্চফলনশীল চিংড়ি চাষ করা ছাড়া আমাদের সামনে বিকল্প নেই।’

দেশে এত দিন উচ্চফলনশীল ভেনামি জাতের বিদেশি চিংড়ির চাষ নিষিদ্ধ ছিল। দেশীয় চিংড়ির উৎপাদনও দিন দিন কমছে। যে কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সুবিধা করতে পারছে না বাংলাদেশ। তাই সরকার সম্প্রতি পরীক্ষামূলকভাবে ভেনামি জাতের বিদেশি চিংড়ি চাষের অনুমতি দিয়েছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) অধীনে খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় ভেনামি চিংড়ি চাষের একটি পাইলট প্রকল্প অনুমোদন করেছে।

এই প্রকল্পের ব্যবস্থাপক সুরেন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, ‘পরীক্ষামূলক ভেনামি চিংড়ি চাষ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য থাইল্যান্ডের সিপি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। সে অনুযায়ী কোম্পানিটি ভেনামি চিংড়ি পোনা ও প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ করবে। আমাদের প্রকল্প প্রস্তুত রয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে পোনা আমদানি করা যায়নি বলে প্রকল্পের কাজ কিছুটা পিছিয়ে গেছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *