এই মাটির প্রতিটি কণায় মিশে আছে শহীদের রক্ত আর স্বাধীনতার অমলিন গৌরবগাথা।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে চিরিরবন্দরের মানুষ পিছিয়ে ছিল না। উপজেলার "দশ মাইল" নামক স্থানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের এক সম্মুখ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ে শহীদ হন বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহাতাব বেগ — যাঁর আত্মত্যাগ আজও এই জনপদের মানুষের হৃদয়ে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরিত।
উপজেলার রানীবন্দর জে.বি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে আবিষ্কৃত হয়েছে বধ্যভূমি ও গণকবরের সন্ধান। এই নীরব সাক্ষ্যগুলো মনে করিয়ে দেয় সেই নির্মম দিনগুলোর কথা, যখন এই মাটিতে ঝরেছিল অসংখ্য নিরীহ মানুষের রক্ত। আজ এই স্থান শহীদদের স্মৃতি বহন করা এক পবিত্র তীর্থভূমি।
চিরিরবন্দরের ইতিহাস কেবল মুক্তিযুদ্ধেই সীমাবদ্ধ নয়। ব্রিটিশ আমলে চিরির নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল সওদাগরদের জমজমাট বাণিজ্যকেন্দ্র — যা থেকে এই জনপদের নামকরণ। রেলপথ স্থাপনের মধ্য দিয়ে এই অঞ্চল হয়ে ওঠে উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক জনপদ।
"শহীদের রক্তে রাঙা এই মাটি আমাদের অহংকার। তাঁদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেব না।"
তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া (চিরিরবন্দর উপজেলা), বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জ্ঞানকোষ ও স্থানীয় সূত্র অবলম্বনে।